নিম খৈল এর ব্যবহার

নিম খৈল এর ব্যবহার

Neem Cake

নিম খৈল এর ব্যবহার নিয়ে অনেকের অনেক রকম প্রশ্ন থাকে। নিম খৈল হলো নিম গাছের বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের পর যে খৈল বা গুঁড়ো বাকি থাকে, সেটি। এটি একটি প্রাকৃতিক জৈব সার এবং কীটনাশক, যা বিশেষ করে পটে বা টবে জন্মানো গাছের জন্য খুব উপকারী। এডেনিয়াম একটি শোভাবর্ধক গাছ, যার শিকড় মোটা, কান্ড রসালো এবং পানি সহনশীলতা কম। সঠিক পরিচর্যা ছাড়া এটি সহজেই রোগগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। এই গাছের যত্নে নিম খৈলের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর।

নিম খৈল ব্যবহারে এডেনিয়াম গাছের উপকারিতা (বিস্তারিত):
১. প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কাজ করে
নিম খৈলে থাকা আজাদিরাকটিন (Azadirachtin), সালানিন (Salannin) ইত্যাদি উপাদান পোকামাকড়ের বৃদ্ধিকে বাধা দেয়।
এটি শিকড়ের কৃমি (নিমাটোড), মেলি বাগ, স্পাইডার মাইট ইত্যাদি কীট প্রতিরোধে সহায়তা করে।

২. শিকড় পচা রোগ প্রতিরোধ করে
এডেনিয়াম গাছের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো শিকড় পচা, যা জলাবদ্ধতা বা ছত্রাক সংক্রমণে হয়।
নিম খৈল ছত্রাক প্রতিরোধী উপাদান বহন করে যা এই রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করে।

৩. মাটির গুণমান উন্নত করে
নিম খৈল মাটির গঠন উন্নত করে, যার ফলে পানি সহজে নিষ্কাশন হয় ও বাতাস চলাচল বাড়ে – যা এডেনিয়ামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এটি মাটির অম্লতা ও ক্ষারত্বের ভারসাম্য বজায় রাখে।

৪. পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে
নিম খৈল ধীরে ধীরে পচে গাছের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।
এর ফলে গাছের শিকড় মজবুত হয়, পাতা সবুজ ও সুস্থ থাকে এবং ফুল ধরার ক্ষমতা বাড়ে।

৫. গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
নিম খৈল ব্যবহারে এডেনিয়াম গাছ নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ শক্তি অর্জন করে, ফলে অতিরিক্ত ওষুধ বা সার ব্যবহারের প্রয়োজন কমে যায়।

নিম খৈল ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি (এডেনিয়ামের জন্য):
১. মাটি প্রস্তুতের সময়
প্রতি ৮-১০ ইঞ্চির টবের জন্য ৫০-৭০ গ্রাম নিম খৈল মাটির সাথে মিশিয়ে দিন।
মাটির মিশ্রণ: ৪০% বালি + ৩০% পচা গোবর বা ভার্মিকম্পোস্ট + ২০% পারলাইট/কোকোপিট + ১০% নিম খৈল।

২. তরল সার (Neem Cake Tea) হিসেবে
৫০ গ্রাম নিম খৈল ১ লিটার পানিতে ২ দিন ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে সেই তরল প্রতি ১৫-২০ দিন পর পর গাছের গোড়ায় দিন।
এটি গাছকে পোকামাকড় ও ছত্রাক থেকে রক্ষা করে এবং বাড়তি পুষ্টি দেয়।

৩. পুনঃরোপণ বা চারা লাগানোর সময়
রোপণের আগে গর্তে বা টবে অল্প পরিমাণ (৩০-৫০ গ্রাম) নিম খৈল মিশিয়ে দিলে শিকড় দ্রুত বিস্তার লাভ করে ও রোগমুক্ত থাকে।

সতর্কতা:
কখনোই অতিরিক্ত নিম খৈল ব্যবহার করবেন না, এতে মাটিতে অতিরিক্ত তাপ বা অ্যাসিডিক অবস্থা তৈরি হতে পারে।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, নইলে নিম খৈল পচে গন্ধ ছড়াতে পারে।

মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম খান
দোহার,ঢাকা।

এছাড়াও পড়তে পারেন: এ্যাডেনিয়াম মিডিয়া কিভাবে বানাবেন | How to make Adenium Media

সিস্টেম এ্যাডমিনিস্ট্রেটর

Top Img back to top